মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত কম্পোনেন্ট এর বিস্তারিত আলোচনা।

What is an SoC (System on a Chip)?

বন্ধুরা আমরা সবাই জানি যে আমাদের যে কম্পিউটার আছে তাতে অনেক ধরনের পার্টস যুক্ত করা থাকে। যেমন র্যাম, হার্ডডিক্স, প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি যার কারণে আমাদের ক্যাবিনেটের সাইজটা অনেক বড় হয়ে যায়।

কম্পিউটারের জন্য এগুলো আলাদা আলাদা জায়গায় অ্যাসেম্বল করা যায়। কিন্তু মোবাইল ফোন খুবই ছোট এবং স্লিম তৈরি করা হয় এর জন্য র্যাম, হার্ডডিক্স, প্রসেসর এর জন্য স্বল্প জায়গার প্রয়োজন।


একটা কম্পিউটারের ভিতরে যে সকল কম্পনেন্ট থাকে, একটা মোবাইলের ভিতরেও ঠিক একই ধরনের কম্পনেন্ট থাকে। মোবাইল ফোনকে আমরা সাধারণত মিনি কম্পিউটার বলি।

কম্পিউটারের কম্পোনেন্ট গুলো আলাদা আলাদা রেখে ক্যাবলের সাহায্যে কানেক্ট করা হয় কিন্তু মোবাইলফোন আকারে ছোট হওয়ায় সবগুলো কম্পোনেন্ট একটা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট রাখার প্রয়োজন পড়ে। এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এর নামই হলো SoC (System on a Chip)

System on a Chip হচ্ছে একটা সিঙ্গেল ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট যেটাতে একটা মোবাইল চলার জন্য যে সকল উপাদান দরকার সবগুলোই অন্তর্ভুক্ত করা থাকে।

System on a Chip  শুধুমাত্র মোবাইলে ব্যবহার করা হয় না। ক্যামেরা, স্মার্ট ওয়াচ এবং ছোট যে ইলেকট্রনিক ডিভাইস আছে তাতেও System on a Chip  ব্যবহার করা হয়।

এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে System on a Chip  কি কি কম্পোনেন্ট থাকে? SOC-তে RAM, ROM, CPU, GPU এবং নেটওয়ার্কের সেন্সরসহ নানান ধরনের সেন্সর দেওয়া থাকে।

এখন আপনি ভাবতে পারেন যে একটা সার্কিটে এত কম্পোনেন্ট কিভাবে লাগায়। আমরা সবাই জানি যে একটা মোবাইল ফোন স্লিম এবং ছোট করে তৈরি করা হয়।  বিজ্ঞানের ক্রমবর্দ্ধমান উন্নতির সাথে সাথে প্রযুক্তিবিদরা অত্যন্ত ছোট এবং মাইক্রোচিপ আবিষ্কারক করেছে যার কারণে এটি সম্ভব।

এখন মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে SoC তো অনেক ছোট তাহলে প্রসেসর, র্যাম, রোম, সিপিইউ তো আরো অনেক ছোট। তাহলে কম্পিউটারের মতো এগুলো কি কাজ করে?

কম্পিউটারের মত এতটা পারফরম্যান্স না পেলেও মোটামুটি ভালো রকমই পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।

আশা করছি System on a Chip  বা SoC  বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

 

What is a smartphone processor?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রসেসর কি? প্রসেসর কিভাবে কাজ করে? এবং মোবাইল ফোনে কত রকমের প্রসেসর ব্যবহার করা হয়?

প্রত্যেকটা মোবাইল কোম্পানি তাদের মোবাইল ফোনের স্পিড এবং পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য নিজস্ব প্রসেসর ব্যবহার করে থাকে।

মোবাইল ফোন টেকনোলজির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের সাথে সাথে প্রসেসর স্পিড এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রত্যেকটা মোবাইল কোম্পানি চেষ্টা করছে প্রসেসর ডেভলপ (develop) করার যাতে তাদের কোম্পানি বেস্ট এবং সুপারফাস্ট স্মার্ট ফোন গ্রাহকদের উপহার দিতে পারে।

মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলোর তৈরিকৃত ডিভাইসগুলো (devices) ব্যয়বহুল হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে পারফরম্যান্স (performance) বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত প্রসেসর।

যদি আপনি মোবাইল ফোনে বেস্ট পারফরম্যান্স এবং স্পিড চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে মোবাইল ফোনের প্রসেসর এর দিকে নজর দিতে হবে।

এছাড়াও প্রসেসর মাল্টি-কোর (multi-core) হওয়ার কারণে প্রসেসর এর স্পিড বুষ্ট (boost) হয়। তাই এখন মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো মাল্টিপল প্রসেসর ব্যবহার প্রাধান্য দিচ্ছে।

মাল্টি কোর প্রসেসর এর সুবিধা হচ্ছে এটি একসাথে অনেকগুলো এপ্লিকেশন রান (run)  করতে পারে এবং হাই গ্রাফিক্স ওয়ালা (high graphics) ভিডিও গেম স্মুথলি (smoothly) চালাতে সহায়তা করে।

ল্যাগিং (lagging) ছাড়া মোবাইল ফোনের বেস্ট পারফরমেন্স পাওয়ার জন্য multi core processor গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কত ধরনের প্রসেসর আছে?

এখন আমি আপনাদেরকে বলবো যে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো কত ধরনের প্রসেসর ব্যবহার করে। এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য কি?

যেহেতু প্রত্যেকটা কোম্পানি আলাদা আলাদা প্রসেসর ব্যবহার করে এবং এজন্যই ফোনের পারফরম্যান্সও ভিন্ন হয়।

কম্পিউটার এবং ল্যাপটপে আমরা CPU (Central Processing Unit) ব্যবহার করি যেটা Chip এবং প্রসেসরের সমন্বয়ে গঠিত।

কিন্তু, মোবাইল ফোনে আমরা GPU (Graphics Processing Unit) ব্যবহার করি
যেটা core-based Processor অথবা chipset ।

প্রসেসর গুলো সাধারণত Dual-core, Quad-core, and Hexacore হয়ে থাকে কিন্তু অধিকাংশ মেনুফেকচারিং কোম্পানি গুলো Octa core-based Processors বেশি ব্যবহার করে।


মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর  এবং চিপসেটসমূহ

স্মার্ট ফোনে প্রধানত দুই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় iOS & Android। 

এ কারণে মোবাইল ফোন দুটিতে দুই ধরনের প্রসেসর ব্যবহার করা হয়। একটি থেকে অন্যটির ডিজাইন এবং পারফরম্যান্স আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

তাহলে চলুন একে একে সবগুলো সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা লাভ করি।

১. Apple Bionic SoC

আইফোনের IOS, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং এর মেনুফেকচারিং কোম্পানি শুধুমাত্র অ্যাপেল কোম্পানি নিজেই। অ্যাপেলের Apple Bionic SoC অ্যান্ড্রয়েডের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত উন্নত মানের।

তারা তাদের SoC নামকরণ করেছে Bionic A-series chips এবং মোবাইল ফোনের টেকনোলজির ভিতরে  এটি সর্বাধিক পাওয়ারফুল একটি চিপসেট। অ্যাপেল কোম্পানির প্রসেসরে পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য ARM Cortex CPU cores ব্যবহার করা হয়।

পারফর্মেন্স এবং বেঞ্চমার্ক  দিক থেকে মোবাইল ফোন মার্কেটিং এ Apple bionic chips খুবই জনপ্রিয়  এবংআল্ট্রা এইচডি ভিডিও এবং গেমিং এর জন্য এই ধরনের প্রসেসর দারুণ পারফর্মেন্স দিয়ে থাকে।

 ১. Qualcomm Snapdragon SoCs

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল প্রসেসর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ভিতরে Qualcomm অন্যতম একটা টপ মেনুফেকচারিং কোম্পানি।

মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোতে Qualcomm কোম্পানির স্ন্যাপড্রাগন নামের SoC বেশ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। এই Snapdragon chips গুলো High-powered Kryo cores এর ARM Cortex CPU ব্যবহার করে থাকে।

একই সাথে Snapdragon প্রসেসরগুলোর চিপসেট এর সাথে powerful Adreno GPU ব্যবহার করে থাকে।

এজন্য এইসকল  প্রসেসর এ দারুন পারফর্মেন্স পাওয়া যায় এবং গেমিং এর জন্য বেস্ট। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ক্যাটাগরিতে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর বেস্ট মোবাইল প্রসেসর হিসেবে পরিচিত।

এছাড়াও, Qualcomm 7 series এর upper midrange chipset রিলিজ করেছে যেমন Snapdragon 750G, 765G, 775G, ইত্যাদি। পারফরমেন্সের জন্য এই চিপসেট বেস্ট যদি হাই ফ্লাগশিপ chipsets সাথে এর দাম তুলনা করা হয়।

৩. MediaTek SoCs

অ্যান্ড্রয়েড ফোন অপারেটিং সিস্টেমে মিডিয়াটেকও বহুল ব্যবহৃত একটা চিপসেট।

Bionic এবং কোয়ালকম চিপসেটের মতো এই chip অতটা ভালো পারফর্মেন্স না দিলেও এটি খুব ভাল রকম একটা ডিসেন্ট পারফরম্যান্স দিয়ে থাকে।

তবে, Qualcomm chips থেকে MediaTek SoCs এর দাম অনেক কম।

মিড রেঞ্জ প্রাইস এর মধ্যে মিডিয়াটেক গেমিং মোবাইল ফোনের জন্য সম্প্রতি তাদের নতুন সিরিজের চিপসেট উৎপাদন শুরু করেছে। 

মিডিয়াটেক Dimensity নামের ফাইভ জি সিরিজ এর নতুন চিপসেট লঞ্চ করেছে। এবং এটির পারফরমেন্সও যথেষ্ট ভালো।

বর্তমানে মিডিয়াটেক বেস্ট ভ্যালু ফর মানি টাইপের চিপসেট মোবাইল মার্কেটে নিয়ে আসছে।

সাধারণত, মিডিয়াটেকে Helio SoCOcta-core ARM Cortex CPU এবং Mali GPU ব্যবহার করে। গেমিং পারফরমেন্সের জন্য এই চিপসেট বেস্ট তবে কিছুটা হিটিং সমস্যা আছে।

 ৪. HiSilicon Kirin SoCs

এই Kirin chips- Huawei এবং Honor মোবাইলে দেখা যায় এবং তারা তাদের নিজস্ব চিপসেট উৎপাদন করে এই SoC এর নামকরণ করা হয়েছে Kirin কিন্তু এইগুলো Qualcomm chips এর মত পাওয়ারফুল।

Mali GPU এবং ARM Cortex-based CPU থাকার কারণে Kirin SoC খুব ভালো পারফরম্যান্স দেয়। তবে কোয়ালকম চিপসেট এর মত অতটা ভাল পারফরম্যান্স দেয়না।

ভালো পারফর্মেন্স দেওয়ার জন্য তারা কোয়ালকম চিপসেট এর সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

ইউএসএ তে Huawei কোম্পানি ব্যান হওয়ার পর Huawei প্রোডাক্ট গুলো গ্লোবালি ততটা ব্যবহার না হলেও চায়নাতে এখনো টপরেটেড একটা ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. Samsung Exynos SoCs

স্যামসাং মোবাইল ফোন খুব দাপটের সাথে মার্কেট শেয়ার দখল করে আছে। এবং স্যামসাং তাদের নিজস্ব চিপসেট Exynos Processors তৈরি করে।

এই Exynos SoC উপরে উল্লেখিত সব গুলোর SoC মত ততটা পাওয়ারফুল এবং পারফরম্যান্সের  দিক থেকে সুইট না হলেও তারা দিন-দিন তাদের সেবার মান বৃদ্ধি করে যাচ্ছে।

চিপসেট অথবা অন্যান্য বিষয়ের দিকে থেকে Samsung সাধারনত ডিসপ্লে এবং ক্যামেরার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

Samsung এর Exynos SoC Octa-core ARM Cortex CPU cores এবং Mali GPU  ব্যবহার করা হয়।

সম্প্রতি Samsung মোবাইল তাদের চিপসেট গুলোর পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সেগুলোর ইমপ্রুভমেন্টও যথেষ্ট পরিমাণে দেখা দিয়েছে। আশাকরি স্যামসাং তাদের Exynos chipsets এর পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করবে।

GPU কি?

জিপিইউ এর পূর্ণরূপ হল গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট।  
সাধারণ প্রসেসর ইনপুট সিগনালগুলো প্রসেসিং করে আউটপুট দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, জিপিইউ সিপিইউ এর কাজ গুলো সহজ করে দেয়। হাই রেজুলেশন গেম অথবা ভিডিও GPU এর মাধ্যমে সহজেই প্রসেসিং করা হয়।

সহজ কথায় জিপিইউ এক ধরনের প্রসেসর যেটা গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।

যে কোন প্রসেসর যেমন ইন্টেল বা অন্যান্য যেসকল প্রসেসর আছে সবগুলোতে ইনবিল্ট গ্রাফিক্স দেওয়া থাকে। 

কোন সিস্টেমে যদি হাই এন্ড কোন ভিডিও অথবা গেম রান করানোর দরকার হয় তাহলে অবশ্যই জিপিইউ ব্যবহার করতে হয় নতুবা সিস্টেম ল্যাগ করে।


সিপিইউ কি?

সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট কে সিপিইউ বলে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোনের ডাটা প্রসেস করার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সিপিইউ।

জিপিইউ কি?

কম্পিউটার ল্যাপটপ অথবা এ স্মার্টফোনের গ্রাফিক্স প্রসেস করার জন্য জিপিইউ ব্যবহার করা হয়। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের গ্রাফিক্যাল ফাংশন প্রসেস করার জন্য জিপিইউ ব্যবহার করা হয়।

System on a chip কি?

স্মার্টফোনের সমস্ত কম্পনেন্ট একসাথে ইন্টিগ্রেটেড করে একটা সার্কিট এ রূপান্তর করাকে System on a chip বলে।

প্রসেসর কাকে বলে?

কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোনের যে যন্ত্রাংশটি সমস্ত তথ্য উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ করে তাকে প্রসেসর বলে।

মিডিয়াটেক চিপসেট কেমন?

মিডিয়াটেক চিপসেট কোম্পানির হেডকোয়ার্টার তাইওয়ান। মিডিয়াটেক অত্যন্ত রিলায়েবল চিপসেট তৈরি করে থাকে।

Qualcomm Snapdragon কেমন?

Qualcomm Snapdragon চিপসেট আমেরিকার একটি বিশেষায়িত কোম্পানি কর্তৃক তৈরিকৃত বিশেষ ধরনের চিপসেট। মোবাইল ফোন টেকনোলজিতে এই চিপসেট সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।


শেষ কথা

আশা করছি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত কম্পোনেন্টগুলো সম্পর্কে বেশ মোটামুটি একটা ধারণা লাভ করেছেন। যেকোনো মোবাইল ফোন কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই ফোনের স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা থাকতে হবে।

মোবাইল ফোন টেকনোলজি ধীরে ধীরে উন্নতিলাভ করছেন একই সাথে ফোনের কম্পোনেন্টও ব্যাপক উন্নত হচ্ছে।

একটা মোবাইল ফোন  সিলেট নির্কবাচন করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া থাকে। ফোনের স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে যদি আপনার খুব ভালো ধারণা থাকে তাহলে আপনি আপনার কাঙ্খিত ফোনটি খুব সহজে নির্বাচন করতে পারবেন।

লেখাটি পড়ে যদি আপনি বিন্দুমাত্র উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই লেখাটি আপনার বন্ধু-বান্ধব অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন।।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post