অব্যর্থ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বাংলা। ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন রোগের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা।আয়ুর্বেদিক ঔষধের নাম।

অব্যর্থ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

অব্যর্থ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বাংলা। ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি।বিভিন্ন রোগের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা।আয়ুর্বেদিক ঔষধের নাম।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা


ডায়াবেটিসের ঘরােয়া চিকিৎসাঃ

(১) শশা, করলা ও টম্যাটো একটা করিয়া নিয়া রস বাহির করিয়া সকালবেলা খালি পেটে সেই রস পান করিলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত হয়। 
(২) জামের বিচির পাউডার করিয়া ১ চামচ করিয়া সকাল-সন্ধ্যা খালি পেটে জলের সঙ্গে মিশাইয়া খাইলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত হয়।
(৩) ৮-টা নিম পাতা সকালে খালি পেটে চিবাইয়া অথবা পিসাইয়া জলের সঙ্গে মিশাইয়া। খাইলে ডায়াবেটিসে আরাম পাওয়া যায়।

স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের মহৌষধ দালিয়া উপকরণঃ 

গম ৪০০ গ্রাম, চাল ৪০০ গ্রাম, গােটামুগ ৪০০ গ্রাম। সব জিনিস সমান মাত্রায় নিয়া ছাকিয়া দালিয়া বানাইয়া নিবেন। এতে জোয়ান ২০ গ্রাম এবং সাদা তিল ৪০ গ্রাম মিশাইয়া নিবেন। প্রয়ােজনানুসারে প্রায় ৫০ গ্রাম দালিয়াকে ৪০০ গ্রাম জলে ঢালিয়া, স্বাদানুসারে তাতে সজী এবং অল্প লবণ মিশাইয়া নিবেন। 

নিয়মিত ১৫ হইতে ৩০ দিন পর্যন্ত এই দালিয়া খাইলে ডায়াবেটিস সারিয়া যায়। মােটা চেহারার হৃদ্‌রােগী এই দালিয়া নিয়মিত খাইলে নিজের শরীরের ওজন কমাইতে পারিবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) ঘরােয়া ওষুধঃ

(১) জলখাবারে একটা আপেল এবং রাতের খাবারে একটা আপেল নিয়মিতভাবে খাইলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হইয়া যায়।
(২) সকালে ১ কাপ লাউয়ের রস পান করিলে পেট পরিষ্কার থাকিবে। তার সাথে সাথে পেটের সমস্ত প্রকারের রােগকেও দূর করিবে এবং ভবিষ্যতে আর পেটের রােগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকিবে না।
৩) পেপে যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তা হইলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না।

আমাশয়ে বেল চূর্ণঃ 

সকাল ও সন্ধ্যাবেলায় ১ চামচ করে বেল চূর্ণ বা ১ গ্লাস করিয়া বেলের সরবৎ সেবন করিলে আম ঠিক হয় এবং মল শক্ত হয়।

 আয়ুর্পুবেদিক ওষুধ পুরান কাশিঃ

সারা দিনে ৫-৬ টা গােলমরিচ মুখে নিয়া ধীরে-ধীরে চুষলে প্রথম দিনেই কাশিতে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। একবারে ৩-৪টি গােলমরিচ মুখে ফেলিয়া চুষতে থাকিলে বহু বছরের পুরান কাশি ঠিক হইয়া যায়।

কোমরে ব্যথা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাঃ 

(১) ২০ গ্রাম কপূর, ১৫০ গ্রাম সরষার তেল একসঙ্গে মিশাইয়া শিশিতে ভরিয়া রােদে রাখিয়া দিন। ২৫-৩০ মিনিট পরে কপূর গলে যাওয়ার পর সেই তেল কোমরে মালিশ করিলে ব্যথা কমে।

(২) দুই ভাগ অশ্বগন্ধা চূর্ণের সঙ্গে এক ভাগ আদা ও এক ভাগ মিছরি মিশাইয়া দুই বেলা সেবন। করিলে কোমরের ব্যথার উপশম হইবে। (বিঃ দ্রঃ সুগার থাকিলে মিছরি বাদ দিয়া খাইবেন।)

 খুশকির আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাঃ

৪০০ গ্রাম নিমপাতার রস, ২০০ গ্রাম তিলতেল, একসঙ্গে মিশাইয়া গরম করিবেন। যখন রস শুকাইয়া শুধু তেল অবশিষ্ট থাকিবে তখন সেই তেল ঠাণ্ডা করিয়া ছাকিয়া শিশিতে ভরিয়া রাখিবেন। ঐ তেল ব্যবহারে খুশকি অবশ্যই কমিবে।

হৃদরােগ, অম্লপিত্ত, উদর রােগ এবং সুলতায় লাভপ্রদ লাউয়ের রসঃ 

লাউ ৭০০ গ্রাম, পুদিনা পাতা ১০টি, তুলসী পাতা ১০টি। উপরােক্ত সব জিনিসগুলির থেকে ১ কাপ রস বাহির করিয়া প্রতিদিন সকালে খালি পেটে সেবন করিলে হার্টের ধমনীতে সৃষ্টি হওয়া বাধা খুলিয়া যায়। অম্লপিত্ত এবং সমস্ত প্রকারের পেটের রােগ নাশ করার জন্য লাউয়ের রস নিয়মিত সেবন করা উচিত।

দুর্বল হার্টকে সবল করতে  আয়ুর্বেদিক মহা ঔষধঃ

অর্জুন চূর্ণ ১০ থেকে ২০ গ্রাম, দুধ ২ কাপ, জল ৬ কাপ মিশাইয়া ফুটান। ২ কাপ অবশিষ্ট থাকিয়া গেলে ছাকিয়া সকালবেলা খালি পেটে পান করিবেন। উক্ত মিশ্রণটি নিয়মিত খাইলে দুর্বল হৃদয়ের ব্যক্তিদের পক্ষে খুবই উপকারী।

বাত রােগের ঘরােয়া চিকিৎসা আয়ুর্বেদিক ঔষধঃ 

(১) হলুদ ২০০ গ্রাম, মেথী দানা ২০০ গ্রাম, শুকনা আদা। ২০০ গ্রাম, অশ্বগন্ধা চূর্ণ ১০০ গ্রাম। সমান মাত্রায় নিয়া চূর্ণ করিয়া নিবেন।

সেবনবিধিঃ 
(১) ১ চামচ করিয়া সকালে জলখাবার এবং রাতের খাবার খাওয়ার পরে সামান্য গরম জলের সঙ্গে খাইয়া নিবেন। এই ঔষধ সেবনে শরীরের জয়েন্টের যন্ত্রণা, গেঁটে বাত, কোমরের যন্ত্রণা ইত্যাদিতে বিশেষ উপকার হয়। 
(২) ১ থেকে ৩ কোয়া রসুন খালি পেটে জলের সঙ্গে গিলিয়া খাইলে শরীরের জয়েন্টের যন্ত্রণায় উপকার হয়। এর সাথে সাথে বাড়িয়া উঠা কোলেস্ট্রল, ট্রাইগ্লিসারাইড স্বাভাবিক হইয়া উঠে। হৃদয়ের শিরাগুলােয় অবরােধ দূর করিতেও রসুন বিশেষ উপকারী।

সর্দি-কাশি এবং জ্বরের জন্য আয়ুর্বেদিক ঔষধ প্রয়ােগঃ

(১) ১০টি তুলসী পাতা, ৮টি লবঙ্গ নিয়া এক গ্লাস জলে ফুটান। তুলসী পাতা এবং লবঙ্গ জলে ফেলার আগে খেতাে করিয়া নিন। জল ফুটিয়া যখন অর্ধেকের মত হইয়া যাইবে, তখন তাহাতে কিছুটা সন্ধক লবণ ফেলিয়া গরম-গরম পান করিবেন। এই ক্বাথ পান করিয়া কিছু সময়ের জন্য গায়ে চাদর মুড়ি দিয়া নিবেন, যাতে ঘাম হয়। এতে জ্বর সঙ্গে সঙ্গে ছাড়িয়া যাইবে এবং সর্দি-জ্বর আর কাশিও ঠিক হইয়া যাইবে। এই ক্বাথ দিনে দুই বার, দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত নিতে পারেন।

(২) ছােট বাচ্চাদের সর্দি-জ্বর এবং কফ হইলে তুলসী আর আদার রস ৫-৭ ফোঁটা মধুতে মিশাইয়া চাটাইলে বাচ্চাদের কফ, সর্দি ঠিক হইয়া যায়। এই ঔষুধ সদ্যজাত শিশুকেও অল্প মাত্রায় দেওয়া যাইতে পারে।

কাশিতে বাসক পাতার উপকারিতাঃ

২ চামচ বাসক পাতার রস, ২ চামচ আদার রস ও ১ চামচ মধু একসঙ্গে মিশাইয়া সেবন করিলে সমস্ত রকম কাশিতেই আরাম পাইবেন।

মাথার যন্ত্রণা, অনিদ্রা এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় কিভাবে উপশম পাইবেন? 
সকাল-সন্ধ্যা খালি পেটে এবং রাতে ঘুমাইবার সময় নাকে বাদাম তেল ৫ ফোটা করিয়া দিলে মাথার যন্ত্রণা, মাইগ্রেনের যন্ত্রণা, অদ্রিা, স্মৃতি দৌর্বল্য, মাথা ভারী-ভারী লাগা, প্যারালাইসিস, কম্পবাত, ডিপ্রেশন এবং সাইনাসে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। মাথার যন্ত্রণা এবং অদ্রিায় সাথে সাথে কাজ করে।

আঁচিল এবং কড়ার ঔষধঃ

সজ্জীক্ষার ১০ গ্রাম, খাবার চূণ ১০ গ্রাম, কাচার সােড়া ১০ গ্রাম, গেরু ২ গ্রাম। অল্প পরিমাণ জল মিশাইয়া চারটি জিনিসকে থেঁতাে করিয়া/পিসাইয়া মলমের মত তৈরী করিয়া নিবেন। মাংসাঙ্কুরের উপরে দেশলাইয়ের কাঠি বা তুলার সলতা দিয়া একবার লাগাইবেন। একবার লাগাইলেই মাংসাঙ্কুর শুকিয়ে যাইবে। একবারে মাংসাঙ্কুর না শুকাইলে ৩-৪ দিন পরে একদুইবার আরও লাগাইতে পারেন। কিন্তু প্রয়ােগটি সতর্কতার সঙ্গে করিবেন।
কড়া ও কড়াকে তীক্ষ ধারমুক্ত হাতিয়ার দিয়া কাটিয়া তাহাতে এই ঔষুধ ভরিয়া দিন। এইভাবে কিছুদিন লাগাইলে কড়া পড়া বন্ধ হইয়া যায়।

সুগার নিয়ন্ত্রণে আয়ুর্বেদিক ভেষজ ঔষধঃ

(১) ১টি করলা, ১টি শশা, ১টি টম্যাটো, ৭টি সাদা নয়নতারা ফুল, ৭টি ওই ফুলের পাতা ও ৭টি নিম পাতা একসঙ্গে মিশাইয়া রস করিয়া পর পর সাত দিন খাইলে উপকার হইবে। 
(২) তিন গ্রাম চামচূর্ণ সকাল ও সন্ধ্যায় খালি পেটে খাইলেও সুগার কমিবে। 

দাঁতের ব্যথায়ঃ 

(১) দাঁতের যন্ত্রণায় সাদা তিল ভীষণ উপকারী। দাঁত ব্যথা শুরু হইলে সাদা তিল আক্রান্ত স্থানে রাখিয়া ধীরে ধীরে চিবাইবেন, ব্যথা কমিয়া যাইবে। 
(২) সরষার তেলের সঙ্গে সৈন্ধব লবণ মিশাইয়া প্রতিদিন, দাঁত মাজলে দাঁত ভালাে থাকিবে। 

মেদ কমাইবার প্রাকৃতিক এবং আয়ুর্বেদিক উপায়ঃ 

(১) এক চামচ ত্রিফলা চূর্ণ রাত্রিবেলায় ২০০ গ্রাম জলে ভিজাইয়া পরদিন সকালে উহা ফুটান। জল যখন ফুটিয়া অর্ধেক হইবে তখন উহা নামাইয়া ছাকিয়া নিবেন। গরম থাকিতে থাকিতে। তাহাতে ২ চামচ মধু মিশাইয়া খালি পেটে খাইয়া ফেলিবেন। কয়েকদিন পরেই উপকার বুঝিতে পারিবেন। 
(২) সকালবেলা গরম জলে মধু ও লেবুর রস মিশাইয়া সেবন করিলেও উপকার পাওয়া যায়।

যদি পোস্টটি পড়ে আপনাদের বিন্দুমাত্র উপকার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এটি আপনার  বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। নিজে জানুন অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।


শেষ কথা 
আশা করছি পোস্টটি পড়ে আপনি  উপকৃত হয়েছেন যদি পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি এটি আপনার বন্ধু বান্ধবের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post