ব্রণ অথবা পিম্পল এর ঘরোয়া চিকিৎসা

মুখের ছোট ছোট ব্রণ দূর করার উপায়

ব্রণ দূর করার উপায়
ব্রণ দূর করার উপায়


হ্যালো প্রিয় পাঠক, সোশ্যাল মিডিয়া অথবা গুগল সার্চের মাধ্যমে আপনি পোস্টটি পড়েছেন এর অর্থ এই যে আপনিও ব্রণ তথা পিম্পল এর সমস্যায় ভুগছেন।
যদি আপনি ব্রণ অথবা পিম্পল এর ঘরোয়া চিকিৎসা বিষয়ক কার্যকরী এবং বিজ্ঞানসম্মত টিপস্ কাজে লাগিয়ে ব্রণ এর সমস্যা চিরতরে দূর করতে চান তাহলে অবশ্যই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি পড়বেন।

পৃথিবীর অধিকাংশ লোক এই সমস্যাটিতে ভুগে থাকেন। একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ লোক ব্রণের সমস্যায় আক্রান্ত। আপনার যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ব্রণ হয়ে থাকে, হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই। কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক এবং সাধারন সমস্যা।

আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে বলবো কিভাবে খুব সহজে ঘরোয়া উপায়ে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

আমার আজকের এই পোস্টটিতে কিভাবে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন বিষয়ক যে তথ্যগুলো থাকবে আশা করছি এই টিপসগুলো মাধ্যমে আপনি সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন।

ব্রণ দূর করার জন্য প্রচলিত যে পদ্ধতি গুলো রয়েছে সেগুলো salicylic acid, niacinamide, or benzoyl peroxide এর ব্যবহার। এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার ফলপ্রসূ সমাধান পাওয়া গেলেও খুবই ব্যয়বহুল। এগুলোর বেশকিছু সাইড ইফেক্ট ও আছে। যেমন, শুষ্কতা, রুক্ষতা, লালচে বর্ন হয়ে যাওয়া এবং ইরিটেশন বা অস্বস্তি।

যেহেতু ত্বক একটি সেনসিটিভ অঙ্গ, তাই বেশির ভাগ লোকজনই চায় কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণের সমস্যা দূর করা যায়। একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ৭৭ পার্সেন্ট ব্রণের রোগী, বাড়িতে থাকা উপকরণ এর মাধ্যমে ব্রণের চিকিৎসা করতে পছন্দ করেন।

আপনার যদি ব্রণের সমস্যা থাকে এবং আপনি যদি চান প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে ব্রণ দূর করতে হবে তাহলে এই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন আমি আপনাদেরকে বলবো কিভাবে খুব সহজে বাড়িতে থাকা উপকরণ ব্যবহার করার মাধ্যমে বাড়িতে বসেই আপনি ব্রণের সঠিক চিকিৎসা করতে পারেন এবং ব্রণ দূর করতে পারেন।

এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে ব্রণ দূর করার কার্যকরী ১৩ টি উপায়ে বলবো।

ব্রণ কেন হয়?

ব্রণ সাধারণত মুখে এবং কারও কারও ক্ষেত্রে পিঠে হতে দেখা যায়। আমাদের তকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র আছে। আমাদের ত্বক থেকে তৈলাক্ত এক ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হয়। তৈলাক্ত পদার্থ এবং মৃত চামড়া বা ময়লার কারণে ত্বকের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

আমাদের ত্বকে যে ছিদ্র থাকে প্রত্যেকটি ছিদ্র sebaceous gland এর সাথে যুক্ত থাকে যেটা তৈলাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে এবং যে তৈলাক্ত পদার্থ উতপাদন করে তার নাম হলো sebum। 
যখন ময়লা বা মৃত ত্বকের সেল দ্বারা তাকিয়ে থাকা ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখন এই sebum নির্গত হতে পারে না। তখন ধীরে ধীরে ত্বকের থাকা ছিদ্রটি বড় হতে থাকে। পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করেন। এবং সেটি পেকে যায়। তাছাড়াও এটি শুকিয়ে গেলে ব্ল্যাকহেড এ রূপ নেয়।
পিম্পল হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় তাৎপর্যের সঙ্গে ভূমিকা পালন করে।

পিম্পল হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে
  • জেনেটিক্স
  • স্ট্রেস বা মানসিক চাপ
  • হরমোনের পরিবর্তন
  • খাদ্যাভ্যাস
  • ইনফেকশন

স্ট্যান্ডার্ড ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে খুব সহজে নিবারণ করা যায়। তবে আপনি চাইলে আমার দেওয়া এই বিশেষ প্রাকৃতিক নিয়ম গুলো পালনের মাধ্যমেও পিম্পলের সমস্যা দূর করতে পারেন।

১. আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার আপেল থেকে তৈরি হয়। আনফিল্টার্ড আপেলের রস থেকে আপেল সিডার ভিনেগার তৈরি হয়।
অন্যান্য ভিনেগার এর মত আপেল সিডার ভিনেগার ও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের সাথে যুদ্ধ করে সেগুলো ধ্বংস করে দেয়।

আপেল সিডার ভিনেগারের অর্গানিক এসিড রয়েছে যেমন সাইট্রিক এসিড যেটা পিম্পল এ তৈরি হওয়া ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে খুবই কার্যকরী। আপেল সিডার ভিনিগার এ বিদ্যমান থাকা এসিড ব্যাকটেরিয়া নির্মূলে ভূমিকা পালন করে।

কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন।

  • তিন ভাগ পানির সাথে একভাগ আপেল সিডার ভিনেগার মিশাতে হবে। (যদি আপনার স্কিন সেনসিটিভ হয় তাহলে পানির পরিমাণ বেশি দিতে হবে।)
  • ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করার পর পানি এবং ভিনেগারের মিশ্রণটি আলতোভাবে তুলার সাহায্যে মুখে লাগাতে হবে।
  • মিশ্রণটি মুখে লাগানোর পর শুকানোর জন্য অপেক্ষা করুন।
  • মিশ্রণটি দিনে দুই থেকে তিনবার লাগান।

সারসংক্ষেপ
ব্রণ হওয়ার জন্য যে ব্যাকটেরিয়া দায়ী, আপেল সিডার ভিনেগার এ অবস্থিত এসিড এটি নির্মূল করতে সমর্থ হয়। তবে আপেল সিডার ভিনেগার লাগালে কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে তাই এটা লাগানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।



২. জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।

জিংক সাপ্লিমেন্ট বলতো এখানে জিংক ওষুধের কথা বলা হয়েছে।আপনার শরীরে যদি প্রয়োজনীয় জিংক না থাকে তবে অবশ্যই আপনি ডাক্তারের পরামর্শমতো জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন।

জিংক একটি অত্যাবশ্যকীয় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেটি কোষ বৃদ্ধি, হরমোন উৎপাদন, জৈবিক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম, এবং ইমোইন ফাংশন ঠিক রাখার  জন্য প্রয়োজন।

একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে যাদের ব্রণের সমস্যা আছে তাদের শরীরে জিংকের ঘাটতি আছে। এবং যাদের স্কিন ভালো তাদের শরীরে জিংক এর পরিমাণ পর্যাপ্ত মাত্রায় আছে।গবেষণায় দেখা গেছে জিংক গ্রহণের ফলে ব্রণের সমস্যা অনেকাংশে দূর হয়।

তাই যদি আপনার মুখে প্রচুর পরিমাণে ব্রণ হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।
জিংক গ্রহণের নির্ধারিত কোন মাত্রা নেই, তবে কেউ গবেষণায় দেখা গেছে দৈনিক ৩০ থেকে ৪৫ এমজি গ্রহণের ফলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

তবে এখানে আপনাকে আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে আপনার পেটে ব্যথা সহ নানান ধরনের সমস্যা হতে পারে।

সারসংক্ষেপ
যাদের শরীরে জিংকের ঘাটতি রয়েছে, তাদের মুখে ব্রণ  হতে দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণা দ্বারা লব্ধ তথ্য থেকে জানা যায় মুখের ব্রণ দূর করার ক্ষেত্রে জিংকের ব্যবহার কার্যকরী ভূমিকা রাখে।



৩. দারুচিনি এবং মধুর মিশ্রন তৈরী করে মুখে লাগান।

মধু এবং দারুচিনির মিশ্রণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। আপনার মুখে যদি ব্রণের হয়ে অনেকটা ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই এটি অনেক কাজে দিবে।

২০১৭ সালের একটা স্টাডিতে দেখা যায় মধু এবং দারুচিনির বা কলেজ রড রসে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংঘটিত ব্রণ নির্মূল এর বিশেষ কার্যকরী।অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে শুধুমাত্র মধুর ব্যবহার স্কিন সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর।

অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার কারণে মধু এবং দারুচিনির মিশ্রন ব্রণ বা পিম্পল নির্মূলে অনেক আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে।

কিভাবে মধু এবং দারুচিনির মিশ্রণ তৈরি করবেন।

  • ২ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো নিন। দুটি একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুন।
  • মুখে ভালো করে পরিষ্কার করুন, তৈরিকৃত পেস্ট সুন্দর করে মুখে লাগান এবং 15 থেকে 20 মিনিট রেখে দিন।
  • এরপর আলতোভাবে আপনার মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলুন এবং শুকিয়ে নিন।

সারসংক্ষেপ
মধু এবং দার্শনিক মিশ্রণে anti-inflammatory and antibacterial উপাদান রয়েছে। এ দুটোর মিশ্রণ ব্রণ নির্মূল এর সাহায্য করে।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post