নেটওয়ার্কের ধারণা (Concept of Network)

নেটওয়ার্কের ধারণা (Concept of Network):

একাধিক কর্মপদ্ধতি যখন পরস্পরের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক গড়ে তােলে তখনই তা নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। দুই বা ততােধিক কম্পিউটারের মধ্যে সংযােগ স্থাপন করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। অর্থাৎ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলতে একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে পরস্পর সংযােগ ব্যবস্থাকে বুঝায়। বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এক বা একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বা রিসাের্স শেয়ারের জন্য কম্পিউটারগুলাের মধ্যে ক্যাবল বা টেলিফোন লাইন, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ডিভাইস, ভিস্যাট, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট এর সাথে মডেম দ্বারা সংযােগ স্থাপন করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোেলা। হয়। এই ব্যবস্থায় কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্য এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস বা এক কম্পিউটারের সাথে। অন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপে রাউটার, মডেম সংযােগ দিয়ে আদান-প্রদান করা যায়।
Concept of Network
Concept of Network

মালিকানার ভিত্তিতে : মালিকানার উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা ১. প্রইিভেট নেটওয়ার্ক (Private Network) ও ২. পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network)।

১. প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Private Network) : প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সাধারণত কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মালিকানাধীন থাকে। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক, কলে যে কেউ চাইলেই এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে না। এর সিকিউরিটি সিস্টেম অত্যন্ত মজবুত এবং ট্রাফিক নেই বললেই চলে। যেমন- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বাের্ড, DU, BUET, Lecture Publications Ltd, প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নেটওয়ার্ক। এখানে ডেটা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লায়েন্ট দিয়ে মেইন সার্ভারের জমা থাকে। যেমন– Lecture Publications Ltd. এর IP অ্যাড্রেস 202.51.189.106।

২.পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network) : পাবলিক নেটওয়ার্ক সাধারণত কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মালিকানাধীন থাকে না। তবে এটি কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। যে কেউ চাইলেই এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে। এ জন্য ব্যবহারকারীকে মূল্য পরিশােধ করতে হয়। যেমন- টেলিফোন নেটওয়ার্ক সিস্টেম, American Online (AOL), CompuServ !

পাবলিক নেটওয়ার্ক ও প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মধ্যে পার্থক্য :

পাবলিক নেটওয়ার্ক প্রাইভেট নেটওয়ার্ক
পাবলিক নেটওয়ার্ক১. পাবলিক নেটওয়ার্ক সাধারণত কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মালিকাধীন থাকে না। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক১. প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সাধারণত কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মালিকাধীন থাকে ।
পাবলিক নেটওয়ার্ক২. এটি কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক২. এটি একটি নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক।
পাবলিক নেটওয়ার্ক৩. যে কেউ এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক৩. যে কেউ এ ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে না।
পাবলিক নেটওয়ার্ক৪. ডেটা ট্রান্সফার দ্রুত গতির। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক৪. ডেটা ট্রান্সফার কম গতির।
পাবলিক নেটওয়ার্ক৫. কম নিরাপদ। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক৫. অধিক নিরপদ।
পাবলিক নেটওয়ার্ক৬. উদাহরণ : টেলিফোন নেটওয়ার্ক সিস্টেম, American Online (AOL), CompuSery । প্রাইভেট নেটওয়ার্ক৬. উদাহরণ : DU, BUET ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নেটওয়ার্ক।


নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ ও সেবা প্রদানের ভিত্তিতে :

নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে ও সেবা প্রদানের উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—১. সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক, ২. ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক ও ৩. হাইব্রিড নেটওয়ার্ক।

১. সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক : সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক একটি প্রধান বা হােস্ট কম্পিউটার এবং টার্মিনাল নিয়ে গঠিত প্রধান কম্পিউটারই সকল প্রসেসিং ও নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের কাজ করে থাকে। হােস্ট হিসেবে সাধারণত মেইনফ্রেম বা অন্য কোন শক্তিশালী সার্ভার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। টার্মিনাল হলাে এক ধরনের হার্ডওয়্যার যা কীবাের্ড ও মনিটর নিয়ে গঠিত। টার্মিনালের মাধ্যমে ব্যবহারকারী হােস্ট কম্পিউটারে সংযুক্ত হয়ে সার্ভিস গ্রহণ করে।

২. ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক: ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক পরস্পর সংযুক্ত কিছু ওয়ার্কস্টেশন, স্টোরেজ ডিভাইস এবং প্রয়ােজনীয় ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে গঠিত। ওয়ার্কস্টেশনের সাহায্যে সংযুক্ত সার্ভার কম্পিউটারের সার্ভিস গ্রহণ করা যায়। কিছু কিছু ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কে গ্লোবাল স্টোরেজ মিডিয়া থাকে যার মধ্যে গ্লোবাল ইনফরমেশন। ও সফটওয়্যার সংরক্ষিত থাকে। এগুলাে প্রয়ােজনে ওয়ার্কস্টেশন ব্যবহার করতে পারে।

হাইব্রিড নেটওয়ার্ক : সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক ও ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কের সংমিশ্রণে হাইব্রিড নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। এ নেটওয়ার্কে হােস্ট কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রসেসিং এর পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্কে বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।

ইতিমধ্যেই নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান নিজেদের কাজের সুবিধার জন্য নিজস্ব কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারগুলাে একটা নেটওয়ার্ক দ্বারা যুক্ত থাকলে তাদের প্রত্যেকে অন্যদের গবেষণালব্ধ ফলগুলাে। মুহূর্তের মধ্যে জেনে যেতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার পরিধি অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা কেন্দ্রেই নয়; এখন বিভিন্ন কোম্পানি, সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গৃহসমবায়সমূহ এবং অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। এতে তারা সুফলও পাচ্ছে। এসব ছােট ছােট নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করেই বড়। নেটওয়ার্ক গড়ে তােলা যায়।

আকার, দূরত্ব ও ভৌগােলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে :

আকার, দূরত্ব ও ভৌগােলিক বিস্তৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। কয়েক  সাধারণ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলাে:
১. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network - PAN) 
২. লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Local Area Network - LAN) 
৩. ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক (Campus Area Network - CAN) 
৪. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (Metropolitan Area Network - MAN) 
৫. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (Wide Area Network - WAN)। 

১. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network - PAN) : PAN এর পূর্ণনাম Personal Area Network। কোনাে ব্যক্তির সাধারণত 10 মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নিকটবর্তী বিভিন্ন ইনফরমেশন টেকনােলজি ডিভাইসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে PAN বলে। যেমন
• কম্পিউটার (desktop PC, PDA, Shared Peripherals). fcalina (TV, DVD, VCR, Camera, Stereo, MP3) 
• টেলিকম (Telephone, Cell Phone, Intercom, Fax)।
• গৃহস্থলী পণ্য (Micro Oven, Fridge, Clock, Furnace)  প্রিন্টার 
• Telemetry (Utility Meter, Burglar Alarm)।

PAN এর ব্যাপ্তি সাধারণত সর্বোচ্চ 10 মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইউএসবি, ফায়ারওয়্যার, ওয়্যারলেস মিডিয়া ইত্যাদির মাধ্যমে টেলিফোন ডিভাইসগুলাের সাথে সংযুক্ত করা হয়। সীমিত পরিসরে Wi-Fi, Infrared, Bluetooth ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। ল্যাপটপ, পিডিএ, প্রিন্টার, মােবাইল ফোন ইত্যাদি PAN এ ব্যবহৃত ল্যাপটপ - ইনফরমেশন টেকনােলজি ডিভাইসের উদাহরণ। বাড়ি, অফিস, গাড়ি কিংবা জনগণের জন্য উন্মুক্ত যেকোনাে জায়গায় PAN তৈরি চিত্র) পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক করা যায়। খরচ তুলনামূলক কম, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যায়, নয়েজ দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং স্বল্প বিস্তৃতিতে বা এরিয়ায় এটি ব্যবহার করা যায়। এর গতি সাধারণত 10 Mbps! পরিসীমা বৃদ্ধির জন্য রিপিটার, হাব, নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড ব্যবহৃত হয়। 

২. লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Local Area Network -LAN) : LAN শব্দের পূর্ণনাম Local Area Network সাধারণত 1 km বা তার কম এরিয়ার মধ্যে বেশ কিছু কম্পিউটার টার্মিনাল বা অন্য কোনাে পেরিফেরাল ডিভাইস সংযুক্ত করে যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় তাকে LAN বলে। একই ভবনের একই তলায় বা বিভিন্ন তলায়, পাশাপাশি ভবন বা নির্দিষ্ট একটি জাম্পাসে বিভিন্ন কম্পিউটারগুলাের সাথে সংযােগ স্থাপন করে। F AN করা হয়। সাধারণত 100 মিটার বা সীমিত দুরত্বের মধ্যে। এ ব্যবস্থা গড়ে উঠে। এ ব্যবস্থায় ডেটা স্থানান্তরের হার। সাধারণত 10 Mbps থেকে 100 Mbps। LAN এর টপােলজি রণত স্টার, রিং ও ব্রডকাস্ট চ্যানেল পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। x এর ট্রান্সমিশন মাধ্যম হিসেবে সাধারণত কো-এক্সিয়াল ক্যাবল, কো-ইউটিপি ক্যাবল বা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল। ব্যবহার করা হয় । LAN এর একটি সার্ভার কম্পিউটারের সাথে। কয়েকটি কম্পিউটার বা ডিভাইস সংযােগ করা হয়ে থাকে। 

নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ কাঠামাে ও সার্ভিস প্রদানের উপর ভিত্তি করে লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) কে দুই ভাগে ভাগ। করা যায়। 
যথা— 
ক. ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক ও 
খ. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক।  

ক. ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক : ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে একটি কম্পিউটারকে সার্ভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ সার্ভারের সাথে একাধিক কম্পিউটারের সংযােগ দেওয়া হয়। এ সংযােগকৃত কম্পিউটারগুলােকে ওয়ার্কস্টেশন। বা ক্লায়েন্ট বলে। সার্ভার ক্লায়েন্টকে সেবা প্রদান করে। একই সাথে একাধিক ব্যবহারকারী সার্ভার থেকে ডেটা ফাইল, প্রিন্টার, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে। 

সুবিধা : এ ব্যবস্থায় নেটওয়ার্ককে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক পদ্ধতি ডেটাকে সুরক্ষিত রাখে এবং সার্ভার ডেটার নিরাপত্তা প্রদান করে। ফাইন ব্যবস্থাপনা, ডেটা ব্যাকআপ ইত্যাদি সহজে করা যায়। 

অসুবিধা : এ ব্যবস্থায় নেটওয়ার্ক স্থাপন করা এবং ব্যবস্থাপনা জটিল ও ব্যয়বহুল। কোনাে কারণে সার্ভার বিকল হলে পুরাে নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়। 

খ. পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক : পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কে নির্দিষ্ট কোনাে সার্ভার থাকে না। এতে সংযুক্ত সকল কম্পিউটারই একই প্রটোকল অনুসরণে সার্ভার বা ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এখানে প্রতিটি কম্পিউটার ডেটার নিরাপত্তা বিধানে নিজেই দায়ী থাকে। এ ধরনের নেটওয়ার্ক ইনস্টলেশন খুবই সহজ এবং খরচ কম। ব্যবহারকারী যেকোনাে রিসাের্স শেয়ার করতে পারে। 

সুবিধাঃ এক্ষেত্রে কোনাে নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়ােজন হয় না। নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করতে কোনাে দক্ষ জনবলের প্রয়ােজন হয় না।

অসুবিধা : পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব দুর্বল। এ নেটওয়ার্কে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া একাধিক নেটওয়ার্কের সাথে সংযােগ দেওয়ায় অসুবিধা দেখা যায়।

৩. ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক (Campus Area Network - CAN) : CAN শব্দের পূর্ণনাম Campus Area Network। যে নেটওয়ার্ক দুই বা ততােধিক LAN নিয়ে গঠিত হয় তাকে ক্যাম্প এরিয়া নেটওয়ার্ক (CAN) বলে। 
CAN এর বিস্তৃতি 5 কিলােমিটারের মধ্যে থাকে, যা সাধারণত LAN এর চেয়ে বড় , MAN এর চেয়ে ছােট।
যেমন একটি কলেজের বিভিন্ন বিল্ডিং, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, হােস্টেলসমূহ, ফ্যাক্টরির সাথে হেড অফিস, সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের মধ্যে গঠিত হয়ে থাকে। বড় প্রতিষ্ঠানের একাধিক ভবনের ল্যান ব্যবহারকারীদের কাজের সমন্বয়ের জন্য কিংবা মূল্যবান কোন ডিভাইস শেয়ার করার জন্য কর্পোরেট এরিয়া নেটওয়ার্ক (Corporate  Area Network - CAN) তৈরি করা হয়, যা একাডেমিক ভবন অনেকটা ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্কের অনুরূপ।

8. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (Metropolitan Area Network – MAN) : MAN এর পূর্ণনাম Metropolitan Area Network। যখন একটি শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সাধারণত 10 km থেকে 100 km দূরত্বের মধ্যে যে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাকে MAN বলে। MAN সাধারণত LAN এর চেয়ে বড় এবং WAN এর চেয়ে ছােট এলাকা জুড়ে গঠিত হয়। এ ধরনের নেটওয়ার্কের জন্য মাধ্যম হিসেবে টেলিফোন লাইন, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, মডেম, মাইক্রোওয়েভ, রেডিও ওয়েভ প্রয়ােজন হয়। সাধারণত কোনাে বড় ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের শাখা অফিসের মধ্যে যােগাযােগের জন্য MAN নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। একাধিক LAN এর সংযাগ স্থাপন করে MAN নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়।
MAN এর উদাহরণ হিসেবে কোনাে শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ককে উল্লেখ করা যেতে পারে।

৫. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (Wide Area Network – WAN) : WAN 1795 got an Wide Area Network 
স্যাটেলাইট যখন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক শহরের সাথে অন্য শহর, এক দেশের সাথে অন্য দেশ, এক মহাদেশের সাথে অন্য মহাদেশের (সাধারণত 100 km হতে 1000 km) মধ্যে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয় তখন উক্ত নেটওয়ার্ককে WAN বলে। ভৌগােলিক এলাকায় অবস্থিত। একাধিক LAN ও MAN কে নিয়ে WAN নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠে, বলে LAN ও MAN-কে সংযুক্ত করার জন্য বিশেষ ডিভাইস ও টেকনােলজি ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের নেটওয়ার্কের জন্য মাধ্যম হিসেবে টেলিফোন লাইন, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, মডেম, রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। তথ্য আদান প্রদানে এ ধরনের নেটওয়ার্ক বেশি ব্যবহৃত হয়। ক্যাবল সংযােগ সাধারণত 56 kbps থেকে 1.5 Mbps ব্যান্ড উইথের হতে পারে। কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদগণ WAN এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত করেছেন। চিত্রে ঢাকার সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহর (যেমন- কলকাতা, হংকং, লন্ডন) অবস্থিত কম্পিউটারের মধ্যে যােগাযােগ দেখানাে হয়েছে। ইন্টারনেট হলাে WAN এর একটি উদাহরণ। 

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্যসমূহ : এ WAN বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠতে পারে, এমনকি এর বিস্তৃতি গােটা বিশ্বজুড়ে হতে পারে। 
• এটি LAN এর চেয়ে ধীরগতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। 
• এ নেটওয়ার্কে ডিভাইস হিসেবে মডেম, রাউটার প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। 

ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের সুবিধা :
মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ডেটা ও সংবাদ পাঠানাে যায়। 

মেমােরি ব্যবস্থার মাধ্যমে ডেটা সংরক্ষণ ও প্রয়ােজনে গ্রাহকের কাছে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠানাে যায়।
এ নেটওয়ার্কে রােগী ঘরে বসে ডাক্তারের সাথে কথা বলে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। শিক্ষার্থীরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। 
শিক্ষককে প্রশ্ন করতে ও উত্তর জানতে পারবে। কোনাে ক্রেতা শপিং সেন্টারে না গিয়ে সেলসম্যানকে অনলাইনে পণ্য পাঠানাের অনুরােধ করতে পারবে। 
অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনাে স্থান থেকে বিশ্বের যেকোনাে পত্রিকা পড়া যাবে।

LAN, MAN ও WAN এর মধ্যে পার্থক্য :

LAN MAN WAN
LAN এর পূর্ণরূপ হলাে Local Area Network MAN এর পূর্ণরূপ হলাে Metropolitan Area Network WAN এর পূর্ণরূপ হলাে Wide Area Network
সাধারণত 100 মিটার বা তার কম দূরত্বের মধ্যে এ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। একই শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কম্পিউটার বা ডিভাইস নিয়ে এ নেটওয়ার্ক গঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের সাথে এ নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।
এটি একটি রুম বা বিল্ডিং বা একই ক্যাম্পাসভিত্তিক হয়ে থাকে। এটি শহরভিত্তিক হয়ে থাকে। এ ব্যবস্থা অনেক বড় ভৌগােলিক অবস্থান জুড়ে হয়ে থাকে।
এতে মিডিয়া হিসেবে কো এক্সিয়াল বা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ব্যবহার করা হয় এতে মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, মডেম বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা হয়। এতে মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, মাইক্রোওয়েভ সিস্টেম ওস্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।
LAN পরিকল্পনাকারী তাদের নিজেদের নেটওয়ার্ক সেট-আপ যা প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযােগ্য। MAN পরিকল্পনাকারী পাবলিক লাইন ব্যবহারে বাধ্য হন, যা প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযােগ্য খুবই নির্ভরযােগ্য নাও হতে পারে WAN পরিকল্পনাকারী পাবলিক টেলিফোন লাইন ব্যবহারে বাধ্য করে নিতে পারেন, যা প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযােগ্য নাও হতে পারে।
উদাহরণ : ল্যাবে একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে নেটওয়ার্ক। উদাহরণ : ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক। উদাহরণ: ইন্টারনেট।



মোঃ নিজামউদ্দিন স্যার

আমি মোঃ নিজাম উদ্দিন সহকারি শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত আছি। প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম, ভাইরাল নিউজ বিডি -তে একজন নিয়মিত লেখক হিসেবে, অবসর সময়ে লেখালেখি করি। প্রিয় শিক্ষার্থী, আমার কোন লেখা যদি তোমাদের ভালো লাগে তবে তোমরা সেটি শেয়ার করে তোমাদের বন্ধুদেরকেও জানার সুযোগ করে দেবে।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post