ভাব-সম্প্রসারণ-বাংলা ব্যাকরণ Amplification Bangla

ভাব-সম্প্রসারণ

{tocify} $title={Table of Contents}

ভাব-সম্প্রসারণ-বাংলা ব্যাকরণ Amplification Bangla


সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশিত কোন ভাবকে শিল্পসৌকর্যময় ভাষার সাহায্যে পল্লবিত করে তােলার নামই ভাবসম্প্রসারণ। কবিতার দু-একটি ছত্রে কিংবা গদ্যের দু-একটি বাক্যে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরের মধ্যে বিশাল সমুচ্চ ভাব বীজাকারে অন্তনিহিত থাকে। ইংগিতে যেখানে অনেক বলা হয়, ব্যঞ্জনায় অনেক ভাব রূপ লাভ করে। ব্যঞ্জনায় কিংবা ইংগিতে ব্যক্ত সেই সব অকথিত ভাবকে নিজের কথায় বিকশিত করে তােলার নামই ভাবসম্প্রসারণ। যে ভাব সংকুচিত কিংবা কুণ্ঠিত অবস্থায় মূল অংশে আছে, তার বিস্তার বা সম্প্রসারণই ভাবসম্প্রসারণের লক্ষ্য।

অর্থাৎ, উদ্ধৃতাংশের অন্তর্নিহিত ভাবটিকে আশ্রয় করে নিজের চিন্তা বা কল্পনার পথে পাড়ি জমাতে হবে। সাধারণতঃ মহৎ কোন ভাব বা মহৎ কোন আদর্শের কথা বা মানব-চরিত্রের বিশেষ কোন গুণ বা দোষের কথা উদ্ধৃতাংশের মধ্যে নিহিত থাকে। তাকে অবলম্বন করে কবি বা লেখকের চিন্তা বা কল্পনার অনুসরণে সেই ভাবাদর্শের জগতে বিচরণ করতে হবে।

ভাবসম্প্রসারণ সম্পর্কে কতকগুলি কর্তব্যঃ  
১। প্রদত্ত কাব্যাংশ বা পদ্যাংশটি প্রথমেই কয়েকবার পাঠ করে এর অন্তর্নিহিত ভাব-সত্যটির মর্মোদ্ধার করতে হবে। 
২। কাব্যাংশ বা পদ্যাংশে প্রযুক্ত শব্দসমূহের প্রয়ােগ–সার্থকতা অনুধাবণ করতে হবে। 
৩। মূলভাববস্তুর প্রকাশে বিভিন্ন শব্দ কিভাবে সাহায্য করছে, লক্ষ্য করতে হবে। 
৪। প্রারম্ভিক বাক্যটি সুরচিত দৃঢ়পিন এবং ক্রিয়াপদ বর্জিত হলে ভাব-সম্প্রসারণটি আকর্ষণীয় হয়। 
৫। ভাব-সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে কোন ক্ষুদ্র কথিকা কিংবা কবি মহাপুরুষদের সুভাষিত বাণী মঞ্জরীর দএকটি  উদ্ধৃতি করা যায়। এ উদ্ধৃতি মূল-ভাব পরিস্ফুটনে যেন সহায়ক হয়। 
৬। ভাব-সম্প্রসারণের আয়তন প্রবন্ধের মত বিশাল ও সারাংশ বা সারমর্মের মত ক্ষদ হবে না। 
৭। কবি বলেছেন, কিংবা এখানে কবির বক্তব্য হল, এ ধরনের মন্তব্য ভাব-সম্প্রসারণে নিষ্প্রয়ােজন।

যে জন দিবসে মনের হরষে
জালায় মােমের বাতি, আশুগৃহে তার দেখিবেনা আর
নিশীতে প্রদীপ ভাতি।

ভাব-সম্প্রসারণঃ রাত্রিকালে ধরায় নেমে আসে অমানিসার গাঢ় কালাে অন্ধকার। তখন কাজ-কর্ম সম্পাদনের জন্যে আমাদের আলাে জ্বালাতে হয়। কিন্তু দিনের বেলায় সূর্য কিরণে গােটা পৃথিবী হয় উদ্ভাসিত। তখন কাজের জন্যে আলাে জ্বালানাের প্রয়ােজন হয় না। কেউ যদি মনের আনন্দে দিনের বেলায় আলাে জ্বালায় । তবে তা হবে অতিরিক্ত ও অপ্রয়ােজনীয় ব্যয়—যার ফল অতীব মারাত্মক। অপচয়কারী এমন দুরবস্থায় পতিত হয়। যে তার আর নিস্তার থাকে না।
অনুরূপভাবে ধন-ঐশ্বর্যে গর্ববােধ করে যদি কেউ কোন অপচয় করে তাহলে এমন একদিন আসবে যেদিন তার প্রয়ােজনীয় ব্যয় করার মত অর্থ থাকবে না। প্রবাদে আছে “ইচ্ছাকৃত অপচয় মারাত্মক অভাব ডেকে আনে।” ধন গর্বে গর্বিত ব্যক্তিই বড় অপরিণামদর্শী। মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে সে হঠাৎ হয়ে পড়ে অভাবগ্রস্ত। তখন তাকে নিজের কর্মের জন্যে অনুতাপানলে দগ্ধ হতে হয়। কাজেই মিতব্যয়ী ও সয়ী হবার জন্য আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। তাহলেই, আমরা অভাবমুক্ত হয়ে মনের আনন্দে জীবনযাত্রা করতে সমর্থ হব।
 

ছােট ঘােট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ি তােলে মহাদেশ সাগর অতল।

ভাব-সম্প্রসারণঃ ছােটকে কোনদিন হিংসা করতে নেই। একটি বড় জিনিস প্রাথমিক পর্বে থাকে ছােট এবং পারিপার্শ্বিকতায় ক্রমান্বয়েই বড় আকার ধারণ করে। ছােট জিনিস খেলনা হলেও তার মূল্য অসীম। ক্ষুদ্রের যে মূল্য আছে তার প্রমাণ পাই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা মিলে হয়েছে সাহারা এবং বিন্দু বিন্দু জল মিলে গড়ে ওঠেছে। মহাসাগর! সামান্য সহানুভূতির স্পর্শে এবং স্নেহের ক্ষুদ্র দানে—এ মরুভূমির সংসার স্বর্গে পরিণত হয়েছে। অনুরূপ একটি ছােট ইটের ওপর আরেকটি ইট রেখে গড়ে তােলা যায় গগনচুম্বী অট্টালিকা। 
কাজেই, ছােট কোন জিনিসকে আদৌ তুচ্ছ জ্ঞান করতে নেই। কারণ, মহৎ কাজের পেছনে রয়েছে অসংখ্য ছােট কাজ।

চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে কি পারে ? 
কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশী বিষে দংশেনি যারে।

ভাব-সম্প্রসারণঃ অঢেল ঐশ্বর্যের মধ্যে যে হয়েছে লালিত পালিত, সে কি করে দুঃখীর দুঃখকে অনুভব করতে পারে ? অভাবের তীব্র যন্ত্রণা যাকে স্পর্শ করেনি, সে অভাব সম্পর্কে অজ্ঞ। অর্থাৎ, যে যেটা আদৌ ভােগ। করেনি সে তার তাৎপর্য কোনদিনই অনুধাবন করতে পারেনা। অনুরূপ যাকে কোন দিন সাপে দংশেনি, সে বিষের জ্বালা বুঝতে পারে না। একমাত্র দুঃখীই দুঃখের অসীম জ্বালা অনুভব করতে পারে এবং তার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করতে পারে। সুখী ব্যক্তি দুঃখকে কল্পনাও করতে পারে না। কাজেই, ভুক্তভােগীর কাছে তার। নিজের ভােগের কথা যতটা জানা যায়, তা অন্যের কাছ হতে জানা যায় না।

নদীর এপারে কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস,
ওপারেতে সব সুখ আমার বিশ্বাস। নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।

ভাব-সম্প্রসারণঃ এ পৃথিবীতে প্রত্যেকেই সুখ নামক সেই সােনার হরিণকে ধরার পাগল। যে যা পাচ্ছে। তাতে তার তৃপ্তি নেই। অথচ , অন্যের সম্পদ, অর্থ এবং সুখের প্রতি মানুষের দুনিবার আকর্ষণ রয়েছে। নিজের চেয়ে অন্যের সুখ সে সর্বদা বড় করে দেখে। মানুষ সুখের পেছনে অন্ধাবেগে ছােটে। তখন সে নিজের মধ্যে সুখ পেয়ে অন্যের সুখের সন্ধান করে। এপার-ওপার কোন পারেই সুখ নেই। যে যেখানে অবস্থান করছে, সে। সেখানে, তার সুখ পায়না। মনে হয়, অন্যত্রই সুখ বিরাজ করে। তাই এ অধরাকে আদৌ ধরা যায় না।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে,
তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।

ভাব-সম্প্রসারণঃ অন্যায়কারী ও অন্যায়সহ্যকারী উভয়েই সম-অপরাধী। মূলতঃ অন্যায়ের সংশ্রব থেকে আমাদের কায়মনােবাক্যে দূরে থাকতে হয়। অন্যায় মানুষকে পশুতে পরিণত করে। এতে মানুষের নৈতিকতার । ঘটে চরম অবক্ষয়। প্রথমে ছােট-খাটো অন্যায় আমাদের পাপ পথে টেনে নেয়, পরে সে অন্যায় পরিত্যাগের আর সম্ভাবনা থাকেনা বলে জীবন দুঃখপূর্ণ ও দুর্বিসহ হয় ওঠে। নিজে অন্যায় না করলেও কর্তব্য শেষ হয় না। কোন A অন্যায় কাজ দেখলে সাথে সাথে তার প্রতিরােধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবাই যদি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় এবং নিতান্ত ভাল মানুষ সেজে বসবাস করে, তবে গােটা সমাজের হবে অধঃপতন। এ কারণে আল্লাহতায়ালা অন্যায়কারী ও অন্যায়সহ্যকারী উভয়কেই ঘৃণা করেন।

দশের লাঠি একের বােঝা।
দশে মিলে করি কাজ,
হারি জিতি নাহি লাজ।

ভাব-সম্প্রসারণঃ এ পৃথিবী বিশাল কর্মশালা। এখানে অনেক কাজ অনেকে অনেকভাবে করে থাকে। কিন্তু। এখানে এমন বড় বড় কাজ আছে যা, একার পক্ষে আদৌ করা সম্ভব হয় না, সম্ভব হলেও অনেক সময় ও শ্রমের। প্রয়ােজন। কিন্তু সে সব কাজ সমবেতভাবে বা দশ জনে মিলে করলে অতি অল্প সময়ে, অল্প পরিশ্রমে ও সহজে সম্পন্ন হয়। দশজনের চেষ্টায় যা সহজে সম্ভব, একার চেষ্টায় তা বহু কষ্টেও সম্ভব নয়। তাই সকলের। সহযােগিতায় কাজ করার প্রয়ােজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। একতাই বল। সম্মিলিত শক্তিই প্রকৃত শক্তি।

দশের মিলিত চেষ্টার কাছে যে-কোন কঠিন কাজ কঠিন মনে হয় না। কিন্তু একার কাছে তা কঠিন ও দুঃসাধ্য মনে হয়। একজনের কাছে যা বিরাট বােঝাস্বরূপ দশজনের কাছে তা নিতান্ত নগণ্য ও সামান্য একখানা লাঠির। মত। একাকী কাজ করার অসুবিধে অনেক। একাকী কাজ করতে গেলে অনেক সময় ব্যর্থতা আসে। তখন এ বার্থতা বা পরাজয়ের গ্লানি একারই মাথা পেতে নিতে হয়। কিন্তু অনেকে মিলে কাজ করে তাতে ব্যর্থ হলেও তার গ্রনি সবার ওপর পড়ে, তাতে লজ্জার বােধ করার কোন হেতু থাকে না। কথায় আছে, যে একা, সেই ক্ষদ সেই সামান্য। কাজেই সব সময় সহযােগিতার ভিত্ততে আমাদের কাজ করে যাওয়া কর্তব্য। এতে অধিকাংশ ক্ষেতের সাফল্য আসবে।

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি

ভাব-সম্প্রসারণঃ জীবনে সফলকাম হবার চাবিকাঠিই হল পরিশ্রম। পরিশ্রম ব্যতীত উন্নতির আশা করা যায় না। আলস্য ও কর্মবিমুখতা জীবনের জন্য বয়ে আনে চরম দুভার্গ্য। অর্থ বল, আর বিদ্যা বল—তা অর্জন করতে হলে পরিশ্রম আবশ্যক। জামসেদজী টাটা, হেনরী ফোর্ড ও টমাস বাটা প্রভৃতি ব্যক্তিদের প্রতিপত্তি ও ধন-সম্পদ লাভের মূলে ছিল এই পরিশ্রম।পিপীলিকা ও মৌমাছির জীবনযাত্রা প্রণালী দেখে আমরা পরিশ্রম করার শিক্ষা লাভকরে থাকি। পিপীলিকা সারা বছর পরিশ্রম করে বর্ষার খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে। মৌমাছির কঠোর পরিশ্রমে সঞ্জিত মধু তারা পান করে আনন্দ পায়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলাের দিকে তাকালে পরিশ্রমের দৃষ্টান্ত চোখে ভেসে ওঠে। পৃথিবী একটি কর্মক্ষেত্র। তাই প্রত্যেককেই নিজ নিজ কাজের বা কর্মের ফল ভােগ করতে হবে। পরিশ্রম ব্যতিত আলস্যে দিনাতিপাত করলে তার জীবনের আকাশে নেমে আসবে দুঃখ-দুর্দশার ঘন কালাে মেঘ। পক্ষান্তরে পরিশ্রমী ব্যক্তি খুঁজে পাবে তার জীবনের সাফল্য। এজন্যেই বলা হয় “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।”

তােগে প্রকৃত সুখ নেই, ত্যাগেই সুখ।

ভাব-সম্প্রসারণঃ সাময়িক সুখ ভােগ-বিলাসে থাকলেও প্রকৃত সুখের নাম-গন্ধ তাতে নেই। বরং মানুষের অধঃপতনের মূল কারণ হলাে আরাম-আয়েশ বা ভােগ-বিলাস।এ পৃথিবী কর্মক্ষেত্র এবং আমরা সকলেই কর্মী। কর্তব্য যথারীতিভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই প্রকৃত সুখ। উপভােগ করা যায়। অদম্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের জীবন হয় সাফল্যমণ্ডিত। প্রকৃতপক্ষে, ভােগ-লালসা চরিতার্থ করার মানসে অনেক সময় অন্যায়ের আশ্রয় নিতে হয়। ফলে, তার ভবিষ্যৎ হয় নৈরাশ্যজনক। প্রকৃত সুখের স্বাদ পেয়ে থাকে ভাল কর্মীরা; ভােগীরা তা কল্পনাও করতে পারে না। যে কাজ যত বেশি শ্রমসাপেক্ষ, সে কাজ ভালভাবে সমাধা করায় তৃত বেশি আনন্দ, তৃপ্তি ও সুখ লাভ করা যায়।
অতএব, পৃথিবী নামে এ বিশাল কর্মক্ষেত্রে আত্মােন্নতি, সমাজের উন্নতি ও দেশের উন্নতির জন্য কর্মরত থাকা প্রত্যেকেরই উচিত। তাহলেই আমরা প্রকৃত সুখ লাভে হব সমর্থ এবং আমাদের জীবন হবে সাফল্যমণ্ডিত।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।

ভাব-সম্প্রসারণঃ পৃথিবীতে প্রত্যেকটি প্রাণী বা বস্তুর একটি নির্দিষ্ট স্থান আছে। সেই নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণী বা বস্তুকে যেমন মানায়, তেমনি অন্য কোথাও নয়। বাল্যকাল থেকে আমরা যা দেখে অভ্যস্ত নই, তা দেখলে আমাদের মনে আলােড়নের সৃষ্টি হয়। হঠাৎ যদি মানুষের মাথায় শিং গজাতে দেখি, তাহলে কেমন যেন অস্বাভাবিক বােধ হয়। খেজুর রসের পায়েস যেমন সােনার থালায় মানায় না, তেমনি বিরাণীকে কলার পাতায়। অমানানসই মনে হয়। অরণ্যের অধিবাসী বন্য মানুষকে তার বন্য প্রাকৃতিক পরিবেশেই সুন্দর লাগে। প্রকৃতি তার অযত্ন-লালিত সন্তানকে নিজের মনের মত করেই সাজায় বা সাজিয়ে রাখে। মােট কথা, পৃথিবীতে যার যার থানেই তাকে বেশ মানিয়ে থাকে।
মোঃ নিজামউদ্দিন স্যার

আমি মোঃ নিজাম উদ্দিন সহকারি শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত আছি। প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম, ভাইরাল নিউজ বিডি -তে একজন নিয়মিত লেখক হিসেবে, অবসর সময়ে লেখালেখি করি। প্রিয় শিক্ষার্থী, আমার কোন লেখা যদি তোমাদের ভালো লাগে তবে তোমরা সেটি শেয়ার করে তোমাদের বন্ধুদেরকেও জানার সুযোগ করে দেবে।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post